ঢাকা, শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

আশা-নিরাশার দোলাচলে শেয়ারবাজার

২০২২ ডিসেম্বর ২৭ ১০:১৮:৫০
আশা-নিরাশার দোলাচলে শেয়ারবাজার

ফলে আশা-নিরাশার দোলাচলে পড়েছেন শেয়ারবাজারের ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী। অনেকে এখন বিনিয়োগের খোঁজখবর রাখছেন না। বাজার-সংশ্লিষ্ট ও বিনিয়োগকারীরা দাবি করছেন, অচল বাজার সচল হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। শেয়ার আটকে প্রতিনিয়ত ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সূচকের পতনের সঙ্গে লেনদেন কমে ২০০ কোটির নিচে এসেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা গত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২০ সালের ৭ জুলাই ডিএসইতে ১৩৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। আর গত ২২ ডিসেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এই দিন ডিএসইতে মোট ৩২৯ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশগ্রহণ করলেও দর বেড়েছে ২৫টির, দরপতন হয়েছে ১৩৭টি কোম্পানির এবং ১৬৭ কোম্পানির শেয়ার বিক্রির জন্য ক্রেতা আহ্বান করেও কোনো বিনিয়োগকারীর সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে এসব কোম্পানির শেয়ারের দর ছিল অপরিবর্তিত।

অন্যদিকে গতকাল মতিঝিল এলাকার কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নেই। বিনিয়োগকারীরা না আসায় চেয়ার টেবিল ফাঁকা পড়ে আছে। কর্মীদের হাঁকডাক, ছোটাছুটিও নেই। গুমটভাবে কাটছে তাদের সময়।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১২ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ১৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে, ডিএস ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৩ পয়েন্ট কমে ১৮ হাজার ৩০৩ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৯৬৬ পয়েন্ট এবং সিএসই ৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ১৭৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে ১৩৭ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯টির, কমেছে ৪১টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৭টির দর। দিনশেষে সিএসইতে ২৪ কোটি ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, মূলত ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্রোকারেজ হাউসগুলো খারাপ সময় পার করেছে। টিকে থাকার সংগ্রাম করেছে। কোনোমতে চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি ব্রোকারেজ মালিকদের অবস্থা ভয়াবহ খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। আশায় থাকতে থাকতে সবার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে ১৬৯ কোম্পানির শেয়ারের দর কমার সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। যার জন্য লেনদেনের শুরুতে বাজার নেতিবাচক হয়ে পড়ে। এর প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে বছর শেষ ও প্রান্তিক হিসাব-নিকাশ চলছে। একই সঙ্গে ঋণ পরিশোধের চাপে আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যেজন্য অনেকে মনোযোগী হতে পারছে না। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনৈতিক সমস্যার প্রভাব এবার ভালোভাবে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে, যা আগে কখনো পড়েনি।

মোর্শেদ/

ট্যাগ:

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর