ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

মরক্কো রূপকথার সমাপ্তি, ফাইনালে ফ্রান্স

২০২২ ডিসেম্বর ১৫ ০৯:২১:১২
মরক্কো রূপকথার সমাপ্তি, ফাইনালে ফ্রান্স

ফ্রান্সের জাল থাকলো অক্ষত। চমকের পর চমক দেখিয়ে সেমিতে উঠে এসে রূপকথার জন্ম দেয়া মরক্কোর অবিশ্বাস্য পথচলাও শেষ হলো।

বুধবার রাতে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এসেছে ফ্রান্স। বিদায় নিল বিশ্বকাপ কাঁপানো অন্যতম দেশটি।

গত রাশিয়া বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছিল এমবাপ্পেরা। এবার শিরোপা লড়াইয়ে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ দুর্নিবার আর্জেন্টিনা। আগামী ১৮ ডিসেম্বর সোনালী ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা।

ফরাসিদের হয়ে লিড এনে দেন থিও হার্নান্দেজ। সাড়াশি আক্রমণে বক্সের মধ্যে দুরহ কোন থেকে বেশ উপরে থাকা বলে অ্যাক্রোবেটিক শটে মরক্কোর জাল কাঁপান থিও। ৬৪ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সবচেয়ে দ্রুততম গোল এটি। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের সেমিতে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের দুই মিনিটেই গোল করেছিলেন ব্রাজিলে ভাভা।

খেলার প্রথমভাগে ১০ মিনিটের মাথায় মরক্কোর আক্রমণ। ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিস ঝাঁপিয়ে না পড়লে গোল পেতে পারত দলটি। ওনাহির মাপা শট বা দিকে ঝাপিয়ে এক হাতে রক্ষা করেন গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপে রেকর্ড ১৯তম ম্যাচ খেলতে নামা লরিস।

এরপর ১৭ মিনিটে আবার ফ্রান্সের আক্রমণ। তবে অলিভার জিরুদের বুলেট গতির শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ৩৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে বল পেয়েছিলেন জিরুদ। সময়ও ছিল বেশ। তবে তাড়াহুড়া করে নেয়া তার শট লক্ষ্যে থাকেনি।

৪৪ মিনিটে কর্নার কিকে সতীর্থের হেডে বাইসাইকেল কিক নিয়েছিলেন মরক্কোর এল ইয়ামিক। ঝাঁপিয়ে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা ফ্রান্স গোলরক্ষক লরিসের। বল ফেরত আসে পোস্টে লেগে। হতাশ হতে হয় মরক্কোকে।

প্রথমার্ধে নয়টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ফ্রান্স। অন্যদিকে মরক্কোর পাচ শটের মধ্যে দুটি ছিল লক্ষ্যে। বল পজিশনে এই অর্ধে এগিয়ে মরক্কো, শতকরা ৫৬ ভাগ। দুই দলই সমান দুটি কর্ণার পায় প্রথমার্ধে। প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলে ফ্রান্স কখনো হারেনা বিশ্বকাপের ম্যাচে। এর আগে এমন ম্যাচে ২৫টিতে জয় তাদের, ড্র একটি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল শোধে মরিয়া ছিল মরক্কো। একের পর এক করতে থাকে আক্রমণ। কিন্তু কখনো পোস্ট কখনা বা বাধার দেয়াল হয়ে দাড়িয়েছিল ফরাসি গোলরক্ষক। উল্টো ৭৯ মিনিটে আরও পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। এমবাপ্পের পাসে বদলি হিসেবে মাঠে নামা কোলো মুয়ানি প্রথম স্পর্শেই করেন গোল (২-০)। ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রথম গোল এটি তার।

ম্যাচে বল পজিশনে এগিয়ে ছিল মরক্কো, শতকরা ৬২ ভাগ। ১৩ টি শটের তিনটি ছিল লক্ষ্যে। গোল হয়নি একটিও। ১৪ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুটি গোল আদায় করে নেয় ফ্রান্স। তিন কর্নার মরক্কোর, দুটি ফ্রান্সের। এই ম্যাচে মরক্কোর সফল পাস ৫৭২টি, সেখানে ফ্রান্সের ৩৬৪টি।

চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স (১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮, ২০২২)। আগের তিনবারের মধ্যে দুইবারই শিরোপা জিতেছে তারা। এবার ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা জিতে ব্রাজিলকে (১৯৫৮, ১৯৬২) স্পর্শ করতে পারবে এমবাপ্পেরা?

হাবিব/

ট্যাগ:

পাঠকের মতামত:

খেলাধুলা এর সর্বশেষ খবর

খেলাধুলা - এর সব খবর