ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

সামিটের সম্পদ বাড়ছে সিঙ্গাপুরে, দেশে পিছুটান

২০২২ নভেম্বর ১৬ ০৭:১০:০৪
সামিটের সম্পদ বাড়ছে সিঙ্গাপুরে, দেশে পিছুটান

তবে বিদেশে সামিটের সম্পদ ঊর্ধবমুখী থাকলেও দেশে সামিটের মুনাফায় নেমেছে পর। এবার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক বছরেই মুনাফা কমেছে ২০ শতাংশ। পাশাপাশি দায়দেনা অনেক বেড়ে গেছে সামিটের।

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মুনাফার দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সামিট পাওয়ার। ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম ছিল কোম্পানিটির। যদিও চার বছর ধরেই সামিট পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা একই (১৫টি) রয়েছে। চার বছর আগে ছিল ১৪টি।

বিজনেস সাময়িকী ফোর্বসের গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষ ৫০ জনের মধ্যে মুহাম্মদ আজিজ খান ছিলেন ৪২ নম্বরে। তার সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয় এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১০৫ টাকা ধরে হিসাব করলে বাংলাদেশি মুদ্রায় তার সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২১ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি ডলার, ২০২০ সালে ৯৫ কোটি ডলার ও ২০১৯ সালে ৮৫ কোটি ডলার।

ফোর্বস বলছে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা মুহাম্মদ আজিজ খান দেশটির শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থান পান ২০১৮ সালে। ওই বছর সিঙ্গাপুরে তার ও তার পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি মার্কিন ডলার।

তবে ২০১৯ সালে মুহাম্মদ আজিজ খান জাপানি প্রতিষ্ঠান জেরার কাছে সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার ৩৩ কোটি ডলারে বিক্রি করে দেন। ফলে ২০১৯ সালে তার সম্পদের পরিমাণ কমে যায়। তবে এর পর থেকে আবার তার সম্পদের পরিমাণ বাড়তে শুরু করে।

সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে সামিট পাওয়ারের আয় তথা টার্নওভার দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৩১৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকায়। এর আগের বছরে (২০২০-২১) ছিল তিন হাজার ৯৬৬ কোটি ছয় লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে এক হাজার ৩৫২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বা ৩৪.১০ শতাংশ। যদিও আয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েনি কোম্পানির মুনাফায়। বরং গত অর্থবছরে সামিট পাওয়ারের মুনাফা কমেছে ২০.১৬ শতাংশ।

এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফার পরিমাণ ছিল ৮৪২ কোটি ৯২ লাখ টাকা, গত অর্থবছর তা কমে দাঁড়ায় ৬৭৩ কোটি টাকায়। এ হিসাবে এক বছরে সামিট পাওয়ারের মুনাফা কমেছে ১৬৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৯-২০ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮৪৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং ৭২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ চার বছরের সবচেয়ে কম মুনাফা হয়েছে সামিটের। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সামিট পাওয়ারের মুনাফার পরিমাণ ছিল ৫২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামিট পাওয়ারের মুনাফা মার্জিনেও ধস নেমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা মার্জিন ছিল ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৩.৯০ শতাংশ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৩০ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ গত অর্থবছরে সবচেয়ে কম মুনাফা মার্জিন ছিল সামিট পাওয়ারের।

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা নাজুক হওয়ার কারণ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় ডলার কিনতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিল না দিলেও সামিট পাওয়ার তার চারটি সহযোগী কোম্পানির আগের খোলা এলসির দায় সমন্বয় করেছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানির (এসওএসসিএল) কাছ থেকে ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) আমদানিতে এলসি খোলা অব্যাহত রাখতে তা করা হয়।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সামিট পাওয়ারের সহযোগী কোম্পানিগুলোর অধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে যেন কোনো সমস্যা না হয়, তা নিয়ে সামিট পাওয়ারের পর্ষদে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটির পর্ষদ একটি এজেন্ডা অনুমোদন করে এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমদোনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

উপস্থাপনকৃত এজেন্ডায় বলা হয়, সহযোগী কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে ফার্নেস অয়েল আমদানি চালু রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে আগের এলসির দায় সমন্বয় ও নতুন এলসি খুলতে এবং সামিট অয়েল অ্যান্ড শিপিং কোম্পানির বিল পরিশোধ করতে হবে।

তাই বিপিডিবির বিল পরিশোধে দেরি হওয়া এবং মুদ্রার বিনিময় হারের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সামিট করপোরেশন এবং সামিট পাওয়ারের দুই উদ্যোক্তার পক্ষ থেকে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তথ্যমতে, দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো গত অর্থবছরে বেশ ভালো মুনাফা করেছে। সামিট পাওয়ারের আর্থিক প্রতিবেদনেই বিষয়টি উঠে আসে। এক্ষেত্রে ইপিএসের দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সামিট পাওয়ার।

বিদায়ী অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস কমে দাঁড়ায় তিন টাকা ৮৭ পয়সায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল পাঁচ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরে সামিটের ইপিএস কমেছে এক টাকা ৩৮ পয়সা বা ২৬.২৯ শতাংশ।

আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেয়ার হারও কমিয়েছে সামিট পাওয়ার। গত অর্থবছরে কোম্পানিটি ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। এর আগে ২০২০-২১, ২০১৯-২০ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দিয়েছিল ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দিয়েছিল ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড।

এএসএম/

ট্যাগ:

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর